আর্কাইভ
ads
logo

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সব দাবি ‘মিথ্যা’: গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ এ.এম
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সব দাবি ‘মিথ্যা’: গালিবাফ

ছবি : সংগৃহীত

ads

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্র বা আলোচনা—কোনো ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল অর্জন সম্ভব নয়।

ইরানি স্পিকার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের অবরোধ বলবৎ থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব নীতিমালা ও অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে এই প্রণালির নিয়মকানুন নির্ধারিত হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে ইরান ইস্যুতে বেশ কিছু ইতিবাচক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই। এমনকি নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক লেনদেন পুরোপুরি সম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে।

ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী রোববার দুই দেশের আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হবে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথ প্রশস্ত হতে পারে। এছাড়া ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মার্কিন সহায়তায় ইরান সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের কাজও শুরু করেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের কাছে নিজ দেশের মাটির মতোই পবিত্র আমানত। কোনো অবস্থাতেই এটি অন্য কোথাও হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার প্রশ্নই আসে না। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকলে তেহরানও পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জলপথ অতিক্রম করতে হলে অবশ্যই আইআরজিসির অনুমতি নিতে হবে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক তথ্যে ইরানি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজসহ সাধারণ সব জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও সামরিক নৌযানগুলোর ক্ষেত্রে এই সুযোগ থাকবে না। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ